শিরোনামঃ
কাতারে জাতীয় আইনসভা নির্বাচনের মোট প্রার্থীর সংখ্যা ঘোষণা শাহজালাল বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন নিয়ে শুরু নতুন সংকট বিকল্প উপায়ে আমিরাত যাচ্ছেন আটকে থাকা প্রবাসীরা, ব্যয় হচ্ছে ৫ গুণ বেশি কাতারে থাকা বাংলাদেশিদের ফোনে কল দিয়ে চাওয়া হচ্ছে তথ্য, দূতাবাসের সতর্কতা সাইকেল চালিয়ে এক্সপো পরিদর্শনে আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী কাতারে আজ থেকে শ্রমিকদের জন্য কর্মবিরতির মেয়াদ শেষ বিমানে দেশে বা বিদেশে ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি তিন দিনে বিমানবন্দরের বসছে পিসিআর ল্যাব, দায়িত্ব পেল ৭ প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কার্গোতে দেশে মালামাল পাঠানো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কাতারে তৃতীয় ডোজের টিকা দেওয়া শুরু, আগে যারা পাবেন অগ্রাধিকার
বাবা অনেক আগেই চলে গেছে, এবার ৩ মেয়ে রেখে চলে গেলেন মা

বাবা অনেক আগেই চলে গেছে, এবার ৩ মেয়ে রেখে চলে গেলেন মা

বাবা নেই প্রায় ১২ বছর হল । তিন বোনের মাকে ঘিরেই ছিলো সব। তিন বোনের মধ্যে সু’স্থ শুধু ইউসা মনি। বড় দুই বোন অ’সুস্থ। এবার মায়ের ছায়া থেকেও ব’ঞ্চিত হতে হলো তাদের। মা নাসরিন বেগমের চিকিৎসার জন্য যে এম্বুলে’ন্সে করে নিয়ে আসা হয়েছিলো, সেই এম্বুলেন্সেই লা’শ নিয়ে ফিরতে হলো তাকে। ইউসা মনি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রাণ’ঘাতী ক’রো’না ভাই’রা’সের উপস’র্গ ছিলো তার মায়ের। করানো হয়নি পরীক্ষা, তবে ভু’গছি’লেন শ্বা’সক’ষ্টে। সোমবার রাত থেকে প্রচ’ণ্ড শ্বা’সক’ষ্ট শুরু হয়। ইন’হেলার, নেবু’লাইজার দেয়া হয়। তবুও কমছিলো না তা।

 

 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা তারা। নাসরিনের সঙ্গে আসা একজন স্বজন জানান, নাসরিনকে প্রথমে নেয়া হয় নারায়ণগঞ্জের আলিফ জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেই অ’ক্সিজেন। পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে। ঢাকা মেডিকেল থেকে জানানো হয় সিট খালি নাই। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও সিট না পেয়ে আনা হয় ডিএনসিসি হাসপাতালে। তিনি আরো বলেন, নাসরিন দীর্ঘদিন বারডেমে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার দুটি কিড’নিতে সম’স্যা ছিল। সর্বশেষ তার ফুসফু’স ‘সংক্র’মিত হয়।

 

 

বেলা তখন সকাল ১১ বেজে ৫২ মিনিট। মাকে নিয়ে ল’ড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইউসা। এম্বুলেন্সেই কাতরাচ্ছেন নাসরিন। মায়ের পাশে অস’হায় ইউসা। এম্বুলেন্সের দরজা খুলতেই দেখা যায় মায়ের হাত ধরে বসে আছে সে। হাসপাতালে সিট না পেয়ে অস’হায় ইউসা এম্বুলেন্সেই বসে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু মিলছে না সিট। প্রায় ২০ মিনিট কে’টে যায়। মায়ের অবস্থা নাজুক হতে থাকে। কান্নাকা’টি শুরু করে দেয় ইউসা।

 

 

এঅবস্থায় এগিয়ে আসেন একজন চিকিৎসক। স্ট্রে’চারে করে নাসরিনকে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রায়াজ রুমে। বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে ইউসা। কিছু সময় পর পর ট্রায়াজ রুমে উঁ’কি দেয় সে। আর সঙ্গে আসা স্বজনকে বলতে থাকে, আম্মুর কিছু হবে নাতো? আম্মু বেঁচে ফিরবে তো? আম্মু ছাড়া আমার আর কেউ নাই। কথাগুলো বলতে বলতে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁ’দ’তে তাকে সে।

 

ওদিকে ট্রায়াজ রুমেই শেষ নিঃশ্বা’স ত্যা’গ করেন নাসরিন। মায়ের মৃ’ত্যুর খবরে ইউসার বুকফা’টা কা’ন্নায় ভা’রি হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা প্রতিটি মানুষ স্ত’ব্ধ। সবার চোখে তখন পানি। কা’ন্না করতে করতে ইউসা বলতে থাকে, শ্বা’সক’ষ্টে অনেক কষ্ট পাইছে মা।

 

 

ডাক্তারের রুমে যাওয়ার আগে আমার কাছে মা’প চেয়ে গেছে। আমারে কয়, মা’প দিস আম্মু। আম্মু কিভাবে একা থাকবে কবরে। আমারে ছাড়া আম্মু একা কবরে থাকতে পারবে না, আল্লাহ। আমার মাও নাই, আমার বাপও নাই। আমি কি নিয়ে থাকবো একলা?

সংবাদটি শেয়ার করুন




© ২০২১ | বিডি রাইট কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme