শিরোনামঃ
বিদেশ থেকে ৩৬ বছর পর নিঃস্ব হয়ে ফেরা প্রবাসীকে নিতে চায়নি স্বজনরাও! দিনাজপুরের তরুণীর প্রেমে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চলে আসলো অস্ট্রিয়ার যুবক দুবাইয়ের রাস্তা থেকে ইট পরিস্কার, প্রবাসীর সাথে দেখা করলেন আমিরাতের প্রিন্স ৩১ টাকার ছাড়িয়ে গেছে কাতারি রিয়ালের রেট, দাম কমেছে মানিগ্রামে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রীদের কমপক্ষে ৩ ঘন্টা আগে পৌঁছানোর অনুরোধ পরীমনির ছেলের নাম পছন্দ হয়নি, ‘পরমানন্দ’ রাখতে বললেন তসলিমা আরব আমিরাতে সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন ফুটফুটে সন্তানের ছবি ও নাম প্রকাশ করলেন পরীমনি নিজেদের জন্য কেনা কাতার বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রির সুযোগ বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের কোর্স করানোর সিদ্ধান্ত
বেশি কথা বললে তুই বিদেশই যেতে পারবি না: বিমানবন্দরে মারমুখী আর্মড পুলিশ

বেশি কথা বললে তুই বিদেশই যেতে পারবি না: বিমানবন্দরে মারমুখী আর্মড পুলিশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এখনও বা’জে আচরণের শি’কার হচ্ছেন রেমিট্যান্স যো’দ্ধারা। ভো’গান্তি তো আছেই, সেই সঙ্গে বা’জে আচরণের শি’কার হচ্ছেন অনেকে। রাতে ৮ ঘণ্টা ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরে বেড়েছে যাত্রী ও স্বজনদের চা’প। অভি’যোগ উঠেছে, এ চাপ সাম’লাতে কথায় কথায় মা’রমুখী হয়ে ওঠে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। চা’প সাম’লাতে এখন বহির্গমন টার্মিনালের ড্রাইভওয়েতে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাত্রীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের।

 

তবে স্বজনদের নামিয়ে দেওয়া নয়, মূলত অভি’যোগ হলো— নামিয়ে দেওয়ার সময় যাত্রী কোনও প্রশ্ন বা অনুরো’ধ জানালেই শুনতে হচ্ছে তু’ই-তো’কারি। এমনকি মাম’লার হু’মকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভি’যোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে বাংলা ট্রিবিউন। বিদেশফে’রত, বিদেশগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের প্রত্যেকেই আর্মড পুলিশ সদস্যদের আচরণে দারুণ ক্ষু’ব্ধ। ২৫ ডিসেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে এসেছিলেন আরব আমিরাত প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিন।

 

বহিগর্মন টার্মিনালের ড্রাইভওয়েতে ঢোকার মুখেই আর্মড পুলিশের সদস্যরা জসিমের স’ঙ্গে আসা চাচা, স্ত্রী ও দুই সন্তান- এদের যেকোনও একজন ছাড়া বা’কিদের নেমে যেতে বলেন। কেন স্বজনরা সঙ্গে যে’তে পারবে না জানতে চাইলে ক্ষি’প্ত হয়ে ওঠেন পুলিশ সদস্যরা। জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি তাদের বললাম, উপরে আমি শুধু গাড়ি থেকে নামবো, বাকিরা নামবে না। পুলিশ সদস্য তখন আমাকে বললেন, বেশি কথা বললে তুই বিদেশই যেতে পারবি না।

 

আব্দুল আলিম যাবেন সৌদি আরব। ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। ভু’লে তিনি ফোন ফেলে আসেন গাড়িতে। ছেলেকে ফোন দিয়ে জানালেন তিনি তিন নম্বর গেটের সামনে আছেন। বাবার ফোন পেয়ে বহির্গমন টার্মিনালের উত্তর পাশের ড্রাইভওয়ে দিয়ে উপরে উঠতে গেলে তাকে আ’টকে দেয় আ’র্মড পুলিশ সদস্যরা। বাবার ফোন দেওয়ার কথা বললে পুলিশ সদস্যরা বলেন, তোর বাবাকে বল এসে নিয়ে যেতে। তুই যেতে পারবি না।

 

আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি তাদের অনুরো’ধ করলাম ফোনটা দিয়েই চলে আসবো। তখন তারা বললেন, ‘বেশি কথা বলিস না, মোবাইল চু’রির মা’মলায় গ্রে’ফতার করবো।’ যেখানে সহায়তা পাওয়ার কথা, সেখানে আমাকে দেখানো হলো মাম’লার ভ’য়।” ৫০ বছর বয়সী আবুল হোসেনও একই অভি’জ্ঞতার শি’কার। সঙ্গে এসেছিলেন তার ছেলেরা। খা’ড়া ড্রাইভওয়েতে একা লাগেজ বহনে ক’ষ্ট হবে, তাই ছেলেকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন। তাদের থামিয়ে দেয় আর্মড পুলিশ।

 

আবুল হোসেন বলেন, ‘শরীরটা ভালো লাগছিল না। তাদের অনুরো’ধ করলাম, ছেলেকে একটু স’ঙ্গে যেতে দেন। উত্তরে আমাকে বলা হলো, বে’ত দিয়ে পে’টাবে।’ এ ছাড়া বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে বি’কট শব্দে হু’টার, হুইসেল বাজায় আর্মড পুলিশ। এতে অ’স্বস্তিতে পড়েন বয়স্ক ও অসু’স্থ যাত্রীরা। লন্ডনগামী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘হুট করে জোরে হুইসেল শুনে ভ’য় পেয়ে যাই। ভাবলাম বি’রাট গ’ণ্ডগোল লাগলো কি না। আমরা যারা স্বাভাবিকভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের কানের আছে এভাবে হুইসেল বাজানো যে অস’ভ্যতা, এই বোধটুকুও কি তাদের নেই?’

 

১২ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগা’ন্তি নিয়ে দুঃখপ্র’কাশ করেছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেছিলেন, বিমানবন্দরের যাত্রীসেবায় গা’ফিলতি বা যাত্রী হয়’রানি হলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২২ ডিসেম্বর বিমানবন্দর পরিদর্শন করে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দ্রুত সেবা প্রদান করার নির্দেশনাও প্রদান করেন। বিমান প্রতিমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটছে না বিমানবন্দরে।

 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বাং’লা ট্রি’বিউনকে বলেন, ‘কোনও যাত্রীর সঙ্গে যদি স্বজন আসেন, তাদের কারও সঙ্গেই এপিবিএন সদস্যরা খারা’প ব্যবহার করতে পারেন না। যদি অনেক স্বজন থাকেন সেক্ষেত্রে তাদের বুঝিয়ে দুয়েকজনকে এলা’উ করা যেতে পারে। তবে কোনও যাত্রীর যদি সাহায্য বা কোনও প্রয়োজন হয় সেক্ষত্রে তাকে ফো’র্স করা যাবে না।’

 

বিমানবন্দর (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (এসপি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম খান বাং’লা ট্রিবি’উনকে বলেন, ‘যাদের সহযাত্রী প্রয়োজন তাদের এলাউ করছি। একসঙ্গে ২০ হাজার লোক দাঁড়ানোর জায়গা তো বিমানবন্দরে নেই। আমাদের কাছে আগে হচ্ছে যাত্রীসেবা ও তার নিরাপ’ত্তা, দর্শনার্থী নয়। এখন ও’মিক্র’ন ছ’ড়িয়ে পড়ছে, যাত্রী ক’রো’না পরী’ক্ষা করে নে’গেটি’ভ হলে আসেন, সহযাত্রীরা তো পরীক্ষা করিয়ে আসেন না। ভি’ড় বেশি হলে যাত্রীর ঝুঁ’কি বাড়বে।’

 

অবসরে যাওয়া পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, ‘যেকোনও বি’শৃঙ্খলা কিংবা ভি’ড় নিয়ন্ত্রণ করতে যেয়ে কাউকেই যেন পুলিশ প্রতিপ’ক্ষ না ভাবে। সহনশীলতার সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভিড়ের মধ্যে মানুষ বিশৃ’ঙ্খল হয়ে পড়ে। তখন অনেকের বিবেকবো’ধ কাজ করে না। কিন্তু পুলিশও যদি বিবেকবো’ধ হা’রিয়ে ফেলে তবে তা কেমন হয়ে যায়!

 

পুলিশকে বেশি সহনশীল ও বুদ্ধিদী’প্তভাবে কাজ করতে হবে। হুইসেল, হু’টার প্রসঙ্গে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘অনেকে কৌতুহল থেকে এমনভাবে ভি’ড় করে যে, যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে হু’টার, হুই’সেল না বাজিয়ে পারা যায় না। তবে এমন যেন না হয়, আমার কাছে হুটার, হুই’সেল আছে বলে বাজাতেই থাকবো। এটি অবশ্যই ঠিক নয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন




© ২০২১ | বিডি রাইট কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme