বড় ভাই হাদিসুরের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে ছোট ভাই

বড় ভাই হাদিসুরের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে ছোট ভাই

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হাম’লায় নিহ’ত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের ‘ম’রদেহ গ্রহণ করেছেন তার ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন। ভাইয়ের কফিন ছুঁয়ে কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন প্রিন্স। তার আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বরগুনার বেতাগীর হাসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।

 

ম’রদেহ গ্রহণ করার পর এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠিন পদক্ষে’পের কারণে আমরা হাদিসুরের ম’রদেহ তার বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দায়িত্ব পালন করেছেন, বাকি যা কিছু করার তিনি করবেন। এর আগে সোমবার বেলা ১২টার পর হাদিসুরের ম’রদেহ বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

হাদিসুর রহমানের ম’রদেহ বুঝে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত আছেন তার চাচা মিজানুর রহমান, হারুনুর রশিদ ও আব্দুল জব্বার, খালু তসলিম আহমেদ লাবু ও খালা শিরিন আক্তার। অ’সুস্থতাজনিত কারণে হাদিসুরের বাবা-মা বিমানবন্দরে আসতে পারেননি। শনিবার বিকেলে হাদিসুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পারিবারিক কবরস্থানে এরই মধ্যে কবরের নমুনা করে রাখা হয়েছে। বিদেশ বিভুঁইয়ে বীরের মতো প্রাণ হারানো হাদিসুরকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে আসা লোকজন যেন কোনো ঝক্কি-ঝা’মেলা ছাড়াই তাকে দেখতে পারে এজন্য নেয়া হয়েছে সব প্রস্তুতি।

 

এছাড়া তার বাড়ির উঠানে টা’ঙানো হয়েছে সামিয়ানা, আগত লোকজনকে বসতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে চেয়ার। চাচা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার বেলা ১০টায় বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে জানাজা হবে। এরপর মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে হাদিসুরকে স’মাহিত করা হবে। দাদা আতাহার উদ্দীন হাওলাদার এবং দাদী রোকেয়া বেগমের কবরের পাশেই তাদের আদরের নাতিকে সমা’হিত করা হবে বলে জানা গেছে।

 

হাদিসুরকে হা’রানোর শো’ক বয়ে নিয়েই তাকে দাফনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিসহ মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে তার পরিবার। এখন অপেক্ষা কেবল হাদিসুরের মরদেহ বুঝে পাওয়ার। হাদিসুরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন আমরা ছেলের লা’শ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আ’টকে থাকা অবস্থায় গত ২ মার্চ রকেট হাম’লার শি’কার হয় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। এতে নি’হত হন ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান।

 

ঐ জাহাজে থাকা হাদিসুরের সহকর্মীরা অনেক পথ পেরিয়ে গত বুধবার ঢাকায় আসেন। জাহাজ থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ের বাংকার পর্যন্ত ম’রদেহ নিয়ে এসেছিলেন তারা। তবে যু’দ্ধের ময়দান থেকে আর তা তাদের সঙ্গে আনতে পারেননি। হাদিসুরের ম’রদেহ রাখা হয়েছিল বাংকারের ফ্রিজারে। শুক্রবার ভোরে ইউক্রেন থেকে রওনা হয়ে হাদিসুরের লা’শবাহী গাড়ি রাতে প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে পৌঁছায়। সেখান থেকে টার্কিশ এয়ারওয়েজের একটি কার্গো ফ্লাইটে শনিবার রাতে ম’রদেহ পাঠানো হয় দেশের উদ্দেশ্যে। রোববারই ম’রদহে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিরূপ আবহাওয়ায় ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় রোববার হাদিসুরের ম’রদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© ২০২১ | বিডি রাইট কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme